পোস্টগুলি

বড় বৈচিত্রময় জীবনের অধিকারি মিজানুর রহমান মিজান: এ পৃথিবীর সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা একজন, মহান রব। তিনি কত সুন্দর করে থরে বিথরে যেখানে যা লাগে, তাই দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছেন পৃথিবী নামক এ জগত সংসারকে। মানুষকে আবার আশরাফুল মাখলুকাত নামে সৃষ্টির শ্রেষ্টত্ব উপাধিতে করেছেন ভুষিত। সসীম জ্ঞানের অধিকারি আমরা মানুষ তা বুঝেও অনেক সময় না বুঝার ভান বা দাম্ভিকতা বা অবহেলায় এড়িয়ে যাই। কিন্তু একটু সচেতন দৃষ্টিতে তাকালে দিনের আলোর মত পরিস্কার হয়ে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠে সব কিছু। মহান আল্লাহ জগতের সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা ও হেফাজতকারি। পৃথিবীর সকল প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। যখন যার ডাক আসবে রদ হবার কোন প্রকার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে যে স্থান পরিবর্তন বা লুকিয়ে মরণকে জয় করার আশা করা বাতুলতা তুল্য। অথবা আহাম্মকি ছাড়া কিছুই নেই। যেমন করোনা ভাইরাস আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছে। পৃথিবীতে কেহ কারো নয়। যা পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আর এখন বাস্তবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে তার প্রমাণ দেয়া হচ্ছে। তারপর ও আমরা সচেতন হচ্ছি না। কেমন করে বলি সচেতন হচ্ছি বা হবার লক্ষণ এখনও বিরাজিত নয়। য...

বাড়িভাড়া কমাচ্ছেন না বাড়িওয়ালারা, ক্ষতি কার?

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা আলোচিত সংবাদ দেখলাম; ভাড়ার জন্য ধানমন্ডির এক বাড়িওয়ালা শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে বের দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যবান সনদপত্র ময়লার বাগাড়ে ফেলে দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে করোনার মতো মহামারীর এই সময়টাতেও আমাদের কিছু মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধটুকু জাগ্রত হয় নি। মানবিক মূল্যবোধের কথা নাহয় পড়েই বলছি। আগে লাভ-লসের হিসেবে আসা যাক। বাংলাদেশ মেস অর্গানাইজেশনের তথ্যমতে ঢাকায় ব্যাচেলর মেস বাসার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। ভাড়াটিয়া পরিষদের তথ্যমতে এসব মেস বাসগুলোতে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই প্রায় ২০ লাখ। সরকারি বেসরকারি কাজের সাথে যুক্ত এমন ব্যাচেলর আছেন প্রায় ১০ লাখ। এবং গার্মেন্টস কর্মী ব্যাচেলর আছেন ৫ থেকে ৬ লাখ। এমতবস্থায় কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকার কারনে, শিক্ষার্থীরা অনেকেই ঢাকা ছাড়তে চাইছেন। সেই সাথে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও গার্মেন্টস কর্মী সাটাই হয়ে তারাও গ্রামের বাড়ির দিকে চলে যাচ্ছেন। সবার ঢাকা ছাড়ার মূল কারণই বাড়ি ভাড়া। করোনার কারণে ঢাকায় কাজের পরিমান কমে আসছে। তাই কেউ কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হলে এতো টাকা বাড়িভাড়া দিয়ে...
একজন ছিনতাইকারের ইউটিউব সার্চবার অপশনের সাজেশনে লিখা দেখলাম, ‛ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা খেলে গণপিটুনি থেকে বাঁচবার উপায় কি?’ ইউটিউবে এই ধরণের কোনো কনটেন্ট আছে? আচ্ছা আগে একটা ছোট গল্প বলে নেই। আরো তিন বছর আগে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে একজন ছিনতাইকারের সাথে আমার পরিচয়। আন্তঃনগর ট্রেন থেকে নামছিলাম। পকেটে মোবাইল এবং মানিব্যাগ, এই দুটো জিনিস নিয়ে আমার মস্তিষ্কে একটা সেন্সরের মতো আছে। একটু নড়াচড়া হলেই টের পাই। প্রচন্ড ভিড়ে ট্রেন থেকে নামার সময় আমার পকেটে অন্য কারো হাত বুঝতে পারি। আমি চুপিসারে ছেলেটার হাত ধরলাম। বয়স বারো কি তেরো এরকমই হবে। ছেলেটার হাতে হাতে তখন আমার মানিব্যাগ। হাস্যোজ্জ্বল মুখে খানিকক্ষণ তাকিয়ে ছেলেটাকে ভিড় ঠেলে বাইরে নিয়ে এলাম। যা হলো, এটাই ছেলেটার কাছে প্রত্যাশার বাইরে। কারণ ধরা খাওয়ার সাথে সাথেই ছেলেটার মনে হয়েছে, এই বুঝি খেলাম গণপিটুনি। কিন্তু আমার মাথায় তখন দুটো প্রশ্ন এসেছে; ‛কি?’ এবং ‛কেনো?’ ‛কি’ প্রশ্নের উত্তরে হলো; কেউ একজন আমার মানিব্যাগ ছিনতাই করার চেষ্টা করেছে। আর ‛কেনো?’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ছেলেটাকে বাইরে বের করে আনলাম। প্রথমত আমি ওর চোখে ভয় দেখেছি। কিন্তু আমার হাস্...

আক্ষেপ!

আমার ছেলেবেলা বলি; পাখিদের সাথে মিশতে চেয়েছি তাই বার বার ছুটে গেছি অরণ্যে। ভোরে শিশির মাখা শরীরে সমুদ্রপাড়ে গিয়ে সমস্ত মাছেদের ডেকেছি কিনারে। মাঠ পেরিয়ে তারপর নদী ছুটেছি তেপান্তরে। দিগন্তের পানে ছুটেছি ভেবেছি, কি আছে আকাশের পরে? তারপর আরো ভেবেছি। ভাবনাগুলো সব জমিয়ে শব্দ নিয়ে খেলেছি। এভাবেই কেটেছে আমার ছেলেবেলা। ইচ্ছে ছিলো কবি হবো, নয়তো দার্শনিক। কিন্তু আমাকে থামিয়ে দেওয়া হলো! নবম শ্রেণীতে আমার হাতে বিজ্ঞানের একগাদা বই তুলে দেওয়া হলো। কতো করে বলেছি আমি বিজ্ঞান পড়বো না, তবুও জোর করে আমাকে বিজ্ঞানে ভর্তি করানো হলো। আমার স্বপ্ন থামিয়ে স্বপ্ন দেখলো কে? হ্যাঁ, আমার অভিবাবক। এক্ষেত্রে আমাদের অভিবাবকরা অনেক বেশি স্বার্থপর হন। সন্তান পৃথিবীতে আসার পরই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। সন্তানকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ফুটবলার বানাবেন। তারপর তো আরো কতো কি। আমৃত্যু সন্তানকে অধিনস্তে রেখে নিজেদের চাওয়া গুলো পূরণ করে যেতে চান। কিন্তু যাকে নিয়ে তারা স্বপ্ন দেখেন, তার নিজের ভেতরও তো স্বপ্ন জমে! বড় হওয়ার সাথে সাথে পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে আমাদের মধ্যে বিভিন্ন সাধ জন্মে। স্বপ্ন জমে, ইচ্ছের...

স্বপ্নবাজ মানুষেরা থামে না- থামিয়ে দেয় বাঁধা!

স্বপ্ন ভরা চোখে দু’হাত শূন্যে প্রসারিত করলে, রঙিন ডানা এসে ভর করে কাঁধে। উড়ে যেতে ইচ্ছে হয়; যেইটুকু চাওয়া লিখা আছে, বুকের অদূরে জমা রাখা খামে! কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ আকাশ অন্ধকার করে মেঘ আসে। স্বপ্ন ভরা দু’চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। বাঁধা পেয়ে ডানা দুটো হারিয়ে যেতে চায়। স্বপ্ন সব আধাঁরে মুছে থেমে যাবো? হায়! না! একদমই না। স্বপ্নবাজ মানুষেরা থেমে যায় না! আজকে একজন স্বপ্নবাজ মানুষ দেখেছি। খুব কাছ থেকে দেখেছি, রিকশায়। মানুষটার চোখে ক্লান্তির ছাপ দেখেছি কয়েকবার। জোরে জোরে নিঃশাস নেওয়ার শব্দ শুনেছি সহস্রবার। তবুও থেমে যায় নি, আমাকে নিয়ে গেছে গন্তব্যে। এতো কাছ থেকে একজন স্বপ্নবাজ মানুষকে দেখে অবাক হয়েছি অবশেষে। বলছি; একজন রিকশাচালকের কথা! করোনাকালের এই সময়টাতে অনেকে চাকরি হারিয়েছে, টিউশনি হারিয়েছে। পেট ভরে দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন পর্যন্ত ফুরিয়েছে। কিন্তু স্বপ্ন ফুরোয়নি এই রিকশা চালকের। ঢাকায় একটা প্রাইভেট কলেজে বিবিএ পড়ে। ২২/২৩ বছর বয়সের একজন যুবক। দুপুরের রোদ্রে শরীরের ফর্সা ত্বক লাল হয়ে গেছে। জানতে পারলাম, ঢাকায় টিউশনি করে থাকা-খাওয়া ও পড়ার খরচ চালাতো। করোনায় টিউশনি চলে গেছে। এখন শুধু বেঁচে থাকার...

সফলতা কি?

সফলতা কি? কতটুকু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে নিজেকে সফল বলতে পারবো? আচ্ছা, আগে একটা ছোট গল্প বলে নেই। বিসিএসের রেজাল্ট পেয়ে ঐদিন রানুদিদি আসলো আমাদের বাসায়। মুখোমুখি আমি আর রানুদিদি। বললো, আমি তো সফল। তুই কি করলি রে আরাফাত? আমি বললাম, ‛রানুদিদি মনে আছে, সড়কে একদিন তুমি আর আমি একসাথে একটা রেস শুরু করেছিলাম? তুমি সোজা সড়কে দৌড়াতে থাকলে। চারপাশটা একটিবারও দেখলে না। তুমি জানতে না রানুদিদি, যেই সড়কে তুমি দৌড়াচ্ছো, সেই সড়কের পাশে একটা ছোট নদী ছিলো। সুন্দর নদী। নদীর পাড়ে দাঁড়ালে হিমশীতল বাতাস শরীরে লাগে। নদীর পাশে জামরুল গাছের নিচে ছোট্ট একটা চড়ুই পাখির বাসা ছিলো। চড়ুই পাখির ছানাগুলো আমি হাতে নিয়ে দেখেছি। নদী ছেড়ে পথে পথে আমি কৃষ্ণচূড়া দেখেছি। বাঁশঝাড়ে বাঁশের ফুল দেখে হটাৎ থমকে গেছি। অথচ, রানুদিদি তুমি জানোই না, বাঁশেও ফুল ফোটে। তুমি শুধু দৌড়াতেই থাকলে। ভাবলে, বিস্তৃন্ন সড়ক পারি দিতে পারলেই তুমি সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তুমি একসময় সড়ক পারি দিলে ঠিক। ক্লান্ত তুমি পেছনে তাকিয়ে দেখলে, আমি পথের ধারে পরে থাকা কাঠগোলাপ কুড়াচ্ছি। আমি ক্লান্ত ছিলাম না সেদিন রানুদিদি, কাঠগোলাপ কুড়িয়ে পাওয়ার আনন্দে উৎফুল্...

সঙ্গোপনে ১২

নববর্ষের দিন চিত্রাকে বলেছিলাম, ‛সবাই সাদা শাড়ি পড়েছে আজকে। আর তুমি পড়লা নীল শাড়ি?’ চিত্রা খুব জোরে হেসে বলেছিলো, ‛আমি কিন্তু জানি, তুমিও মনে মনে খুব চেয়েছো আমি নীল শাড়িটাই পড়ি।’ আমি কোনো জানি সেদিন আর কিছুই বলতে পারলাম না। সত্যিই তো; আমি সবসময় চাইতাম আমার দেওয়া নীল শাড়িটা পড়ুক চিত্রা। তবুও ঠিক করেছিলাম, চিত্রাকে লাল পাড়ের একটা সাদা শাড়ি কিনে দিবো। আবার নববর্ষ আসলে পড়বে। চুলগুলো খোঁপা করলে একটা রক্তজবা গেঁথে দিবো। বাঙালি নারীদেরকে নববর্ষে এই সাজটাতে ভালো মানায়। কিন্তু আজ নববর্ষ না। নাকি নববর্ষ? চিত্রার জন্য? লাল পাড়ের সাদা একটা শাড়িতেই দেখছি চিত্রাকে। চন্দন কাঠে সাজানো চিতায় শুয়ে আছে। কিন্তু চুলে কোনো রক্তজবা গাঁথা নেই। চিত্রার খোঁপায় রক্তজবা গেঁথে দেওয়ার ইচ্ছেটা অপূর্ণই রয়ে গেলো? পশ্চিমে লাল আভাটুকু রেখে সূর্য ডুবে গেছে। শান্ত নদীতে পানকৌড়ির দল অবিরাম ছুটে চলেছে। করতোয়ার এইটুকু পাড়ে আলো, অনেক আলো; বাকি থাকা আমার অর্ধেক প্রেম পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে!