পোস্টগুলি

সঙ্গোপনে ১

সরকারি হাসপাতালে আগে আসা হয় নি। একদম হ জ ব র ল অবস্থা। রোগীর তুলনায় শয্যার সংখ্যা কম। এক শয্যায় দুইজন রোগী আগে কখনো চোখে পড়ে নি আমার। চিত্রার পাশে একজন অর্ধবয়স্ক মহিলার হাতে স্যালাইন চলছে। একজনের বেডে দুজন শুয়ে থাকা, আমার নিজের কাছেই বিশ্রী লাগছে। চিত্রা হাসফাঁস করছে। আমার মাথাটা ওর মুখের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বললো, ‛শুনো না, খুব অস্বস্তি লাগছে এখানে।’ আমি চিত্রার হাতটা ধরলাম। বললাম, ‛একটু অপেক্ষা করো, দেখি কি করা যায়।’ চিত্রা মুখটা বিষণ্ণ করে বললো, ‛আমার না আর এক মুহূর্তও থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে না এখানে।’ আমি চুপ রইলাম। কি বলবো বুঝতে পারছি না। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যতটা সহজ, ছাড়া পাওয়া অতোটা সহজ না। ছাড়পত্র চেয়েই বা কি হবে। আমাদের তো কোনো না কোনো হাসপাতালে যেতেই হবে। সব সরকারি হাসপাতালে একই অবস্থা। বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে ছাড় দিবে, কিন্তু সেইটুকু সাধ্য নেই। চিত্রার যা কিছু সঞ্চয় ছিলো, সবটুকুই আমার হাতে দিয়ে দিয়েছে। টাকার হিসেবে সংখ্যাটা খুব বেশি না। হাজার চারেক টাকা এখানেই লাগবে। ওয়ার্ডের একজন সিনিয়ার নার্স আসলে বললাম, ‛এক বেডে দুইজন পেশেন্ট কিভাবে থাকবে আপা?’ ‛রোগ...

কোয়ারেন্টাইন ডায়েরী - 'প্রেম যখন টাইমপাস'

ছবি
দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। ঘরে বসে সবাই নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ বই পড়ছেন, কেউ গল্প লিখছেন, কেউ বা রান্না শিখছেন। অনেকেই অনেক ভাবে সময় কাটাচ্ছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি চোখে পরছে তা হলো, তরুণ-তরুণীদের বড় একটা অংশ এই সময়টা প্রেম করে কাটাচ্ছেন। এবং সুন্দর মুহূর্ত গুলো লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এসব ছড়িয়ে পরা অভিজ্ঞতা থেকে আমি খুব মজার একটা জিনিস আবিস্কার করলাম। সেটাই লিখবো এখন। লকডাউনের সময়টা আমি কাটাচ্ছি আমার বড় কাকার বাড়িতে। পুরো এলাকা জুড়ে বিস্তৃত গজারি বাগান। বাড়ির চারপাশে সারি সারি গজারি গাছ। বাড়ির ছাদে উঠলে শুধু সবুজ দেখা যায়। আশেপাশে জনবসতি কম। বলতে গেলে বাড়িটাকে বাগান বাড়ি ও বলা যায়। বাড়ির একপাশে সেগুন বাগান ও আছে। আমার আগ্রহ সবসময় সেগুন বাগানের দিকেই। এই বাড়িতে থাকলে বেশিরভাগ টাইমপাস করি সেগুন বাগানে বসে। কখনো যদি পুরো সকাল এখানে বসে টাইমপাস করি, তখন আমি সেটাকে বলি সকালপাস! এভাবে সেগুন বাগানে বসে কখনো দুপুরপাস করি, বিকেলপাস ও করি! আপনারা ভাবছেন; এতো 'পাস' 'পাস' কোনো করছি! আসলে আমার আজকের মূল গ...

বলতে পারিনি "ভালোবাসি"!

ছবি
একটা সময় ছিল যখন দিনরাত শুধু একটা মানুষকে নিয়েই ভাবা হতো। সহস্র রাত কেটেছে শুধু একটা মানুষকে নিয়েই স্বপ্ন দেখে। আফসোস কখনো সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলতে পারিনি "ভালোবাসি"। সময়টাকে শৈশব বলা যেতে পারে, আবার কৈশোর বললে ও ভুল হবে না। প্রাইমারি ছেড়ে সবে মাত্র মাধ্যমিকে উঠেছি। ঐ সময়টাতে আবেগ এমনিতেই অনেক বেশি কাজ করে। দুনিয়ার সবকিছুই রঙিন লাগতো তখন। রঙিন দুনিয়াটাকে আরো বেশি রাঙিয়ে দিলো প্রিয়তমার মিষ্টি একটা চাহনি। বলছিলাম জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে প্রথম দেখার কথা। এতো সুন্দর একটা মানুষ হতে পারে! এলোমেলো লম্বা চুল আর চোখগুলো সত্যিই কাজল কালো ছিল। হৃদপিন্ডে মৃদু কম্পনের কারণ বুঝতে পারিনি সেদিন। কারণটা বুঝতে পেরেছিলাম পাঁচ বছর পর। কারণ তখন আর প্রিয়তমাকে দেখতে পেতাম না, আর বুকের ভেতর হৃদপিন্ডটা ও কাপতো না। এর মাঝের সময়টাতে পরীটার কথা ভেবে ভেবে নিজেকে নার্ভাস বানানো ছিল নিত্যদিনের রুটিন। প্রিয়তমার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে কখনো নরমালি কথা বলতে পারিনি। কখনো হাতছুঁয়ে বলতে পারিনি "তোমাকে চাই"। আসলে নিজেকে প্রেমিক প্রেমিক মনে হয়নি তখন। কখনো ছুঁয়ে দেখতে ও ইচ্ছে হয় নি। সামনে এসে ম...

এখনো ভালোবাসি তোমায়

ছবি
তোমার জন্য লেখা চিঠি গুলো আজ পকেটেই থেকে যায়। তোমার জন্য কেনা ফুল গুলো শুকিয়ে একটা সময় ঝরে যায়। এখন আর তোমার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে পারি না ভালোবাসি। আমি কখনো কারো কাছ থেকে ভালোবাসা পাই নি। তবে ভালোবেসেছি। নিজের সবটুকু দিয়েই ভালোবেসেছি তোমায়। তোমাকে যেদিন থেকে ভালোবেসেছি কখনোই হারানোর ভয় করি নি। ভেবেছি নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখবো তোমায়। তুমি আমার পাশে থাকলে কোনো বাধাই অসম্ভব মনে হতো না আমার। কিন্তু সেই তুমিই আজ আমার পাশে নেই। জানিনা কোন এক অজানা ভয়ে ছেড়ে চলে গেলে আমায়। বুঝলে না আমায়। বুঝলে না আমার ভালোবাসা। কাউকে ভালোবাসতে একটা সুন্দর মন লাগে। মনের ভেতরে কিছু অনুভুতি থাকতে হয়। যার কোনো কিছুই তোমার মধ্যে নেই। তাই তো তোমাকে এত ভালোবাসার পর ও তুমি আমার ভালোবাসা বুঝতেই পারলে না। তবে একদিন তুমি ভালোবাসা বুজবে। ভালোবাসতে শিখবে একদিন। এবং সেদিন তুমি আমাকেই খুঁজবে। এখন ও ভালোবাসি তোমায়। একদম আগের মতোই। তবে এখন আর তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারি না। আগে রাত জেগে কবিতা লিখতাম তোমার জন্য, আর অপেক্ষা করতাম একটা নতুন ভোরের যেখানে কাটতো সারাটা দিন তোমার ভালোবাসার ছোয়ায়। আজ সেই সুখস্মৃত...

একটি প্রত্যাখানের গল্প: "তবুও ভালোবাসি"

ছবি
তোমার ভালোবাসা পাইনি বলে আমি ব্যার্থ নই। বরং আমার ভালোবাসা বুঝতে না পেরে তুমি ব্যার্থ। তোমার কাজল কালো চোখের চাহনি, তোমার হাসি এসব কোনো কিছুই বলে নি যে তোমি আমার না। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি অভিনয় টা তুমি খুব ভালোই পারো। তোমাকে দেখার জন্য রাস্তার ধারে যখন দাঁড়িয়ে থাকতাম, তুমি মুচকি হেসে বলতে আজও দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু বলতে না যে, আমার রোজ রোজ দাঁড়িয়ে থাকা শুধু একটা ব্যার্থতার গল্প। তুমি আমাকে দেখে কখনো অখুশি হতে না। আমার দেওয়া গোলাপ তুমি কখনো ফেলে দিতে না। আমার বলা ভালোবাসায় কখনো তুমি বিরক্তি প্রকাশ করতে না। আমার দেওয়া চিরকুট কখনো ফেলে দিতে না। যদিও সেই চিরকুটের কোনো উত্তর দিতে না, তবুও বুঝে নিতাম হয়তো ভালোবাসো। কারণ আমি জানতাম যে মেয়েরা সব কথা মুখে বলতে পারে না। কিছু কথা বুঝে নিতে হয়। আমি ও তাই বুঝে নিয়েছিলাম যে তুমি হয়তো আমাকে ভালোবাসো। তাই তো তোমাকে নিয়ে রঙিন স্বপ্ন বাঁধতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু ভাবি নি যে আমার স্বপ্ন গুলো একসময় হারিয়ে যাবে। তোমাকে নিয়ে ভাবা প্রতিটা স্বপ্নের জন্য এখন এক ফোটা করে চোখের জল ফেললে ও হয়তো চোখের সব জল শুকিয়ে যাবে। যাকে এত ভালবাসলাম তাকে কাছে না পাওয়...